“সেই পাহাড়, সেই ঝর্ণা”
কে এম মন্জুর হোসেন খান ||
মনে আছে?
একদিন আমরা
একটি পাহাড় বেয়ে উঠেছিলাম—
ক্লান্তি ছিল,
তবু থামার কোনো তাড়া ছিল না।
কারণ, পথের শেষের চেয়ে
তোমার পাশে হাঁটাটাই ছিল বেশি সুন্দর।
চূড়ায় পৌঁছে
একটি পুরোনো বটগাছের ছায়ায়
বসে ছিলাম কিছুক্ষণ।
কেউ কোনো কথা বলিনি,
তবু মনে হয়েছিল—
নীরবতারও একটি ভাষা আছে,
যা শুধু দুটি হৃদয়ই বুঝতে পারে।
হালকা বাতাসে
তোমার চুল বারবার
মুখের ওপর এসে পড়ছিল।
আমি শুধু তাকিয়ে ছিলাম—
সময় যেন সেদিন
আমাদের জন্যই ধীরে চলছিল।
তারপর নেমে এসেছিলাম
পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ ধরে।
পাশেই বয়ে চলেছিল
একটি ছোট্ট ঝর্ণা—
কলকল শব্দে
সে যেন আমাদের হয়ে
অজস্র অপ্রকাশিত কথা বলে যাচ্ছিল।
আমরা পাশাপাশি হেঁটেছিলাম,
কিন্তু জানতাম না—
একদিন এই পথ
শুধু স্মৃতির ভেতরেই রয়ে যাবে।
আজও যখন
কোনো পাহাড় দেখি,
অথবা দূরে কোথাও
ঝর্ণার শব্দ কানে আসে,
আমি আর প্রকৃতিকে দেখি না—
দেখি সেই বিকেলটাকে,
যেখানে তুমি ছিলে,
আমি ছিলাম,
আর পৃথিবীটা
অদ্ভুত রকম শান্ত ছিল।
হয়তো পাহাড়টি আজও আছে,
বটগাছটি এখনও ছায়া দেয়,
ঝর্ণাটিও একই সুরে বয়ে চলে।
শুধু বদলে গেছে
আমাদের পথচলা।
তবু বিশ্বাস করো—
জীবনের সব স্মৃতি
সময়ের কাছে হারিয়ে যায় না।
কিছু বিকেল,
কিছু পথ,
কিছু মানুষের পাশে নীরবে হাঁটা—
চিরকাল হৃদয়ের গভীরে
একটি পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে,
আর একটি ঝর্ণার মতো
অবিরাম বয়ে চলে।
=======“সেই পাহাড়, সেই ঝর্ণা”=======
আরো পড়ুন... অদৃশ্য বন্ধন || ব্যস্ততা || শেষ পরিচয় যেন না হয় || “নিঃশব্দ সমর্পণ” ||

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন