সব ঋতুই এলো, তুমি এলে না
কে এম মন্জুর হোসেন খান ||
গ্রীষ্মের দহন শেষে,
শুষ্ক প্রাণে বৃষ্টিরই প্রতীক্ষা;
জ্বলে-পোড়া বিকেলের বুকজুড়ে
এক ফোঁটা মেঘেরও যে অগাধ দীক্ষা।
শুষ্ক প্রাণে বৃষ্টিরই প্রতীক্ষা;
জ্বলে-পোড়া বিকেলের বুকজুড়ে
এক ফোঁটা মেঘেরও যে অগাধ দীক্ষা।
বর্ষা এলো—
তবু সব নদী ভরেনি জলে,
কিছু মেঘ কেবল
রাহুর ছায়া হয়ে
সূর্যটাকেই ঢেকে চলে।
হৃদয় ভিজল না,
ভিজল শুধু জানালার কাচ;
অন্তরের খরায়
বজ্রের শব্দও
হলো না কোনো আশ্বাস।
শরৎ এল শুভ্রতার বেশে,
কাশফুল দুলল বাতাসে;
তবু সাদা মেঘের আড়ালে
হারিয়ে গেল
অপূরণীয় কিছু প্রত্যাশে।
নীল আকাশও
সব প্রশ্নের উত্তর জানে না,
কখনো শূন্যতাই
সবচেয়ে দীর্ঘ কবিতা হয়ে
নেমে আসে নির্জন দুপুরে।
হেমন্তের শিশিরে
খুঁজেছি তোমার অদেখা স্পর্শ,
ধানের গন্ধে ভেবেছি—
হয়তো এবার
ফিরবে হারানো সেই হর্ষ।
কিন্তু ঋতু বদলায়,
বদলায় না অপেক্ষার নিয়ম।
ভালোবাসা আজও
পবনের পিছু পিছু ছুটে চলে,
আর ফিরে আসে
দুই মুঠো নীরবতা নিয়ে।
তাই আজ বুঝি—
সব ঋতুই আসে,
সব ফুলই ফোটে,
সব আকাশেই মেঘ ভাসে;
শুধু কিছু হৃদয়
চিরকাল এক অনন্ত গ্রীষ্মে পুড়ে,
এক অনন্ত বর্ষায় ডুবে,
আর এক অনন্ত শরতের
শূন্য শুভ্রতায়
নিজেকেই হারিয়ে ফেলে।
আরো পড়ুন... অপেক্ষার শেষ প্রহর || আচ্ছা, পরে কথা হবে || উপহাসের পাত্র || ভালো আছি || একটা জীবন পার করে দিলাম || অবহেলার পাঠশালা ||

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন