চারুলতা,
তোমাকে কত কথা বলার ছিল—
কিন্তু বলা হয়ে ওঠেনি।
কিছু কথা ছিল
ঠোঁটের একেবারে কাছে এসে
নীরবতার কাছে হেরে গেছে,
কিছু কথা ছিল
চোখের ভেতর জমে থেকে
চোখের জল হয়ে ওঠেনি কখনো।
তখন ভাবতাম,
সময় তো অনেক আছে—
আজ না হয় কাল বলব,
কাল না হলে অন্য কোনোদিন।
কে জানত,
“অন্য কোনোদিন”
কখনো কখনো
জীবনের সবচেয়ে দূরের দিন হয়ে যায়!
তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম—
তোমাকে দেখলে
আমার দিনটা একটু অন্যরকম হয়ে যায়।
বলতে চেয়েছিলাম—
তোমার সঙ্গে কথা বলার
কোনো বিশেষ কারণ আমার দরকার হয় না,
তোমার সঙ্গে কথা বলাটাই
ছিল আমার কাছে
একটি কারণ।
বলতে চেয়েছিলাম—
তোমার হাসিটা
আমি খুব যত্ন করে মনে রাখি,
যদিও তোমাকে কখনো তা বুঝতে দিইনি।
বলতে চেয়েছিলাম—
তুমি চলে গেলে
চারপাশে সবকিছু ঠিকই থাকে,
শুধু আমার ভেতরটা
কেমন যেন ফাঁকা হয়ে যায়।
কিন্তু বলিনি।
কেন বলিনি, জানি না।
হয়তো ভয় ছিল—
কথাগুলো বলে ফেললে
তোমাকে হারিয়ে ফেলব।
হয়তো মনে হয়েছিল,
আমার অনুভূতির ভার
তোমার ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।
তাই নীরবতাকেই
বন্ধু করে নিয়েছিলাম।
তুমি হয়তো ভেবেছিলে,
আমি কিছুই অনুভব করি না।
আর আমি ভেবেছিলাম,
তুমি হয়তো বুঝতে পারো।
কী অদ্ভুত, তাই না?
দুজন মানুষ
কখনো কখনো একই আকাশের নিচে থেকেও
একজন আরেকজনের মনের আকাশ
পড়তে পারে না।
সেদিন যদি বলতাম—
“চারুলতা, তোমাকে আমার ভালো লাগে,”
তাহলে কি গল্পটা অন্যরকম হতো?
হয়তো হতো।
হয়তো তুমি হেসে বলতে,
“আমি জানি।”
হয়তো অবাক হতে।
হয়তো কিছুই বলতে না।
আবার হয়তো
আমাদের গল্পটা সেদিনই শেষ হয়ে যেত।
তাই হয়তো নীরবতাই
আমাদের গল্পটাকে
আরও কিছুদিন বাঁচিয়ে রেখেছিল।
আজ বুঝি,
সব কথা বলার জন্য নয়।
কিছু কথা
শুধু অনুভব করার জন্য আসে,
কিছু কথা
মনের ভেতরেই সুন্দর থাকে,
উচ্চারণের পর
যেগুলোর সৌন্দর্য হয়তো
আর আগের মতো থাকে না।
তবু একটা কথা
আজও না-বলা রয়ে গেছে—
চারুলতা,
তুমি আমার জীবনে
কোনো দীর্ঘ গল্প হয়ে আসোনি,
তবু তোমাকে ঘিরে
একটি অসমাপ্ত গল্প
আজও আমার ভেতরে বেঁচে আছে।
আর সেই গল্পের প্রতিটি পাতায়
একটি বাক্য বারবার ফিরে আসে-
“কিছু কথা বলা হয়নি,
তাই গল্পটা শেষ হয়নি।”
=======“কিছু কথা বলা হয়নি”=======
আরো পড়ুন... “প্রিয় চারুলতা(গল্পের প্রথম পাতা)" || "প্রিয় চারুলতা(প্রথম দেখা)" || তোমার চোখে যে বিকেল ||

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন