২৭ আগস্ট, ২০২৬

পুরোনো নম্বরে একটি বার্তা - কে এম মন্জুর হোসেন খান

“প্রিয় চারুলতা - একটি অসমাপ্ত গল্প” পর্ব - ৭

পুরোনো নম্বরে একটি বার্তা
কে এম মন্জুর হোসেন খান ||
পুরোনো নম্বরে একটি বার্তা - কে এম মনজুর হোসেন খান | Onuvutir Kobita “অনুভূতির কবিতা”

চারুলতা,
কত বছর পর
তোমার নামটি আবার লিখতে বসেছিলাম-
একটি পুরোনো নম্বরের ঘরে,
যে নম্বরটি এতদিন
আমার ফোনের ভেতর নয়,
মনের কোনো এক গোপন কোণে
নীরবে বেঁচে ছিল।

কতবার ভেবেছি,
একদিন তোমাকে লিখব—
শুধু একটি সাধারণ কথা,
“কেমন আছো?”

তারপর আবার থেমে গেছি।

মনে হয়েছে,
হয়তো তুমি আমাকে ভুলে গেছ,
হয়তো আমার বার্তাটি
তোমার কাছে অপ্রয়োজনীয় কোনো
পুরোনো স্মৃতির মতো মনে হবে।

তবু সেদিন
কী এক অদ্ভুত সাহস এসে
আঙুলের ডগায় বসেছিল।

অনেকক্ষণ
তোমার নামের দিকে তাকিয়ে রইলাম।

মনে হচ্ছিল,
এই ছোট্ট একটি বার্তার ওপাশে
দাঁড়িয়ে আছে কতগুলো বছর,
কতগুলো না-বলা কথা,
কতগুলো অভিমান
আর একটি অসমাপ্ত গল্প।

শেষ পর্যন্ত লিখলাম—

“চারুলতা,
অনেক বছর পর হঠাৎ মনে হলো,
জানতে ইচ্ছে করছে—
তুমি কেমন আছো?”

লিখে ফেললাম।

কিন্তু পাঠাতে পারলাম না।

বারবার পড়লাম,
শব্দ বদলালাম,
আবার মুছে দিলাম।

মনে হলো,
এত বছর পর
একটি মানুষের জীবনে
হঠাৎ ফিরে যাওয়ার অধিকার
আমার আছে তো?

তারপর নিজেকেই বললাম—
আমি তো কোনো দাবি নিয়ে যাচ্ছি না,
কোনো পুরোনো হিসাব চাইতে যাচ্ছি না,
শুধু একটি দরজা খুলে
দেখতে চাইছি—
ওপাশে কি এখনো
আলো জ্বলে?

অবশেষে
কাঁপা আঙুলে
বার্তাটি পাঠিয়ে দিলাম।

তারপর—

অপেক্ষা।

এক মিনিট,
দুই মিনিট,
দশ মিনিট...

সময়ের কাঁটা যেন
সেদিন ইচ্ছে করেই
ধীরে চলছিল।

ফোনটা বারবার হাতে নিলাম,
স্ক্রিনের দিকে তাকালাম,
আবার রেখে দিলাম।

নিজেকেই বোঝালাম—
উত্তর না এলেও কিছু যায় আসে না।

কিন্তু মন তো
সবসময় যুক্তির কথা শোনে না।

হঠাৎ ফোনের পর্দায়
একটি ছোট্ট আলো জ্বলে উঠল।

তোমার উত্তর।

কত ছোট্ট একটি উত্তর—
তবু আমার কাছে
মনে হলো বহু বছরের
নীরবতার দরজায়
কেউ যেন আস্তে করে
একবার কড়া নাড়ল।

সেদিন বুঝলাম,
কিছু মানুষকে ফিরে পেতে
বড় কোনো আয়োজন লাগে না।

লাগে শুধু
একটি সাহসী মুহূর্ত,
একটি ছোট্ট বার্তা,
আর নিজের ভয়কে
একবার পেরিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা।

জানি না
সেই বার্তার পর
আমাদের গল্প কোথায় যাবে।

হয়তো আবার কথা হবে,
হয়তো কয়েকটি শব্দেই
থেমে যাবে সবকিছু।

তবু সেদিনের জন্য
আমি কৃতজ্ঞ।

কারণ বহু বছর পর
প্রথমবার মনে হলো—

আমাদের গল্পের দরজাটা
পুরোপুরি বন্ধ ছিল না;
শুধু কেউ একজন
আবার কড়া নাড়ার সাহস করেনি।

চারুলতা,
আমি জানি না
আমার সেই ছোট্ট বার্তাটি
তোমার কাছে কী ছিল।

কিন্তু আমার কাছে
সেটি ছিল—

বহু বছরের নীরবতার পর
একটি অসমাপ্ত গল্পের
আবার প্রথম বাক্য লেখার চেষ্টা।

আর সেই বাক্যের শেষে
আজও একটি প্রশ্নচিহ্ন—

“চারুলতা,
আমরা কি আবার
একটু কথা বলতে পারি?”

=======“পুরোনো নম্বরে একটি বার্তা”=======

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Pages